হনুমান চালিসা বাংলা | Hanuman Chalisa in Bengali Lyrics, Meaning & PDF — Gollok
🚩 ভক্তি ও মন্ত্র

হনুমান চালিসা বাংলা — Hanuman Chalisa in Bengali

সম্পূর্ণ ৪০টি চৌপাঈ, দোহা, ধ্যানম্, প্রতিটির সহজ বাংলা অর্থ, পাঠের নিয়ম, উপকারিতা এবং PDF ডাউনলোড — সবকিছু এক জায়গায়, শুধুমাত্র Gollok.com-এ।

হনুমান চালিসা (Hanuman Chalisa in Bengali) হলো সংকটমোচন মহাবীর ভগবান শ্রী হনুমানজির মহিমায় নিবেদিত ৪০টি পবিত্র শ্লোকের এক কালজয়ী স্তোত্র। ষোড়শ শতাব্দীতে গোস্বামী তুলসীদাস রচিত এই হনুমান চালিশা বাংলা প্রতিদিন প্রাতঃকালে বা মঙ্গলবার ও শনিবার ভক্তিভরে পাঠ করলে জীবনের সর্বপ্রকার ভয়, বাধা, শনিদোষ ও সংকট দূর হয়। এখানে আপনি পাবেন সম্পূর্ণ হনুমান চালিসা lyrics, প্রতিটি দোহার বাংলা অর্থ (meaning), পাঠের সঠিক নিয়ম, উপকারিতা এবং Hanuman Chalisa PDF ডাউনলোডের সুবিধা।

অক্ষর সাইজ:

হনুমান চালিসা পাঠ (Hanuman Chalisa Lyrics in Bengali)

হনুমান চালিসার প্রধান ৪টি অংশ — ১) দোহা, ২) ধ্যানম্, ৩) চৌপাঈ এবং ৪) দোহা।

দোহা — Doha
শ্রী গুরু চরণ সরোজ রজ নিজমন মুকুর সুধারি ॥
বরণৌ রঘুবর বিমলযশ জো দায়ক ফলচারি ॥
বুদ্ধিহীন তনুজানিকৈ সুমিরৌ পবন কুমার ॥
বল বুদ্ধি বিদ্যা দেহু মোহি হরহু কলেশ বিকার ॥
ধ্যানম্ — Dhyanam
গোষ্পদীকৃত বারাশিং মশকীকৃত রাক্ষসম্ ॥
রামায়ণ মহামালা রত্নং বংদে-(অ)নিলাত্মজম্ ॥
যত্র যত্র রঘুনাথ কীর্তনং তত্র তত্র কৃতমস্তকাংজলিম্ ।
ভাষ্পবারি পরিপূর্ণ লোচনং মারুতিং নমত রাক্ষসাংতকম্ ॥
চৌপাঈ — Choupai (৪০টি শ্লোক)
জয় হনুমান জ্ঞান গুন সাগর।
জয় কপিস তিহু লোক উজাগর॥১॥
রাম দূত অতুলিত বল ধামা।
অঞ্জনী-পুত্র পবন সুত নামা॥২॥
মহাবীর বিক্রম বজরঙ্গী।
কুমতি নিবার সুমতি কে সঙ্গি॥৩॥
কাঞ্চন বরন বিরাজ সুবেষা।
কানন কুণ্ডল কুঞ্চিত কেশা॥৪॥
হাথবজ্র ঔ ধ্বজা বিরাজৈ।
কান্ধে মুঞ্জ জানিউ সাজে॥৫॥
শঙ্কর সুবন কেশরী নন্দন।
তেজ প্রতাপ মহা জগ বন্দন॥৬॥
বিদ্যাবান গুণী অতি চাতুর।
রাম কাজ করিবে কো আতুর॥৭॥
প্রভু চরিত্র সুনিবে কো রসিয়া।
রামলখন সীতা মন বসিয়া॥৮॥
সূক্ষ্ম রূপধরি সিয়াহি দিখাবা।
বিকট রূপধরি লংক জরাবা॥৯॥
ভীম রূপধরি অসুর সংহারে।
রামচন্দ্র কে কাজ সংবারে॥১০॥
লায়ে সঞ্জীবন লখন জিয়ায়ে।
শ্রী রঘুবীর হরষি উর লায়ে॥১১॥
রঘুপতি কীন্হী বহুত বদায়ী।
তুম মম প্রিয ভরত সম ভায়ি॥১২॥
সহস্র বদন তুম্হরো য়শগাবৈ।
অস কহি শ্রীপতি কণ্ঠ লগাবৈ॥১৩॥
সনকাদিক ব্রহ্মাদি মুনীশা।
নারদ শারদ সহিত অহীশা॥১৪॥
য়ম কুবের দিগপাল জহাং তে।
কবি কোবিদ কহি সকে কহাং তে॥১৫॥
তুম উপকার সুগ্রীবহি কীন্হা।
রাম মিলায় রাজপদ দীন্হা॥১৬॥
তুম্হরো মন্ত্র বিভীষণ মানা।
লংকেশ্বর ভয় সব জগ জানা॥১৭॥
য়ুগ সহস্র য়োজন পর ভানূ।
লীল্যো তাহি মধুর ফল জানূ॥১৮॥
প্রভু মুদ্রিকা মেলি মুখ মাহী।
জলধি লংঘি গয়ে আচার্য নাহী॥১৯॥
দুর্গম কাজ জগত কে জেতে।
সুগম অনুগ্রহ তুমহ্রে তেতে॥২০॥
রাম দুয়ারে তুম রখবারে।
হোত ন আজ্ঞা বিনু পৈসারে॥২১॥
সব সুখ লহৈ তুম্হারী শরণা।
তুম রক্ষক কাহূ কো ডরনা॥২২॥
আপন তেজ সম্হারো আপৈ।
তিনোং লোক হাংক তে কাংপৈ॥২৩॥
ভূত পিশাচ নিকট নহি আবৈ।
মহাবীর জব নাম সুনাবৈ॥২৪॥
নাসৈ রোগ হরৈ সব পীরা।
জপত নিরন্তর হনুমত বীরা॥২৫॥
সংকট সে হনুমান ছুড়াবৈ।
মন ক্রম বচন ধ্যান জো লাবৈ॥২৬॥
সব পর রাম তপস্বী রাজা।
তিনকে কাজ সকল তুম সাজা॥২৭॥
ঔর মনোরধ জো কোয়ি লাবৈ।
সহি অমিত জীবন ফল পাবৈ॥২৮॥
চারো যুগ প্রতাপ তুম্হারা।
হৈ প্রসিদ্ধ জগত উজিয়ারা॥২৯॥
সাধু সন্ত কে তুম রখবারে।
অসুর নিকংদন রাম দুলারে॥৩০॥
অষ্ঠসিদ্ধি নব নিধি কে দাতা।
অস বর দীন্ জানকী মাতা॥৩১॥
রাম রসায়ন তুম্হারে পাসা।
সদা রহো রঘুপতি কে দাসা॥৩২॥
তুম্হরে ভজন রামকো পাবৈ।
জনম জনম কে দুখ বিসরাবৈ॥৩৩॥
অন্ত কাল রঘুপতি পুরযায়ী।
জহান জনম হরিভক্ত কহায়ী॥৩৪॥
ঔর দেবতা চিত্ত ন ধরায়ে।
হনুমত সেযি সর্ব সুখ করায়ে॥৩৫॥
সংকট কটৈ মিটৈ সব পীরা।
জো সুমিরৈ হনুমত বল বীরা॥৩৬॥
জয় জয় জয় হনুমান গোসায়ী।
কৃপা করহু গুরুদেব কী নায়ী॥৩৭॥
যো শত বার পাঠ কর কোয়ী।
ছূটহি বন্দি মহা সুখ হোয়ী॥৩৮॥
জো য়াহ পড়ে হনুমান চালীসা।
হোয়ে সিদ্ধি সাখী গৌরীশা॥৩৯॥
তুলসীদাস সদা হরি চেরা।
কীজৈ নাথ হৃদয় মহ ডেরা॥৪০॥
দোহা — Doha
পবন তনয় সংকট হরণ – মংগল মূরতি রূপ্।
রাম লখন সীতা সহিত – হৃদয় বসহু সুরভূপ্॥

সিয়াবর রামচংদ্রকী জয়। পবনসুত হনুমানকী জয়। বোলো ভায়ী সব সনাতন কী জয়। 🙏

হনুমান চালিসা বাংলা অনুবাদ (Hanuman Chalisa Meaning in Bengali)

দোহার বাংলা অনুবাদ

পবন তনয় সংকট হরণ – মংগল মূরতি রূপ্।
রাম লখন সীতা সহিত – হৃদয় বসহু সুরভূপ্॥
হে আশীর্বাদের মূর্ত প্রতীক, পবন পুত্র, সমস্ত দুঃখ হরণকারী! তোমার রূপ মঙ্গলময়। তুমি আমার হৃদয়ে শ্রীরাম, লক্ষণ ও সীতার সঙ্গে সর্বদা বসবাস করো।

ধ্যানম্-এর বাংলা অনুবাদ

গোষ্পদীকৃত বারাশিং মশকীকৃত রাক্ষসম্।আমি বায়ু দেবতার পুত্র অঞ্জনেয়াকে প্রণাম করি। তিনি গরুর পায়ের ছাপের আকারে বিশাল সমুদ্র লঙ্ঘন করেছিলেন এবং রাক্ষসদের বিনাশ করেছিলেন।
রামায়ণ মহামালা রত্নং বংদে-(অ)নিলাত্মজম্॥আমি বায়ু দেবতার পুত্রকে প্রণাম করি। তিনি মহাকাব্য রামায়ণের এক অমূল্য উজ্জ্বল রত্ন।
যত্র যত্র রঘুনাথ কীর্তনং তত্র তত্র কৃতমস্তকাংজলিম্।যেখানেই শ্রীরামের মহিমা গাওয়া হয়, সেখানেই আমি হাতজোড় করে প্রণাম করি।
ভাষ্পবারি পরিপূর্ণ লোচনং মারুতিং নমত রাক্ষসাংতকম্॥আমি ভগবান হনুমানকে প্রণাম করি, যাঁর চোখ ভক্তির অশ্রুতে পরিপূর্ণ এবং যিনি রাক্ষস বিনাশকারী।

৪০টি চৌপাঈয়ের বাংলা অনুবাদ

জয় হনুমান জ্ঞান গুন সাগর। জয় কপিস তিহু লোক উজাগর॥১॥জ্ঞান ও গুণের সাগর হনুমানের জয়। তিন জগতের জাগরণকারী বানর বীরের জয়।
রাম দূত অতুলিত বল ধামা। অঞ্জনী-পুত্র পবন সুত নামা॥২॥রামের দূত, অতুলনীয় শক্তির আধার। অঞ্জনীর পুত্র, বায়ুর বংশ বলে পরিচিত।
মহাবীর বিক্রম বজরঙ্গী। কুমতি নিবার সুমতি কে সঙ্গি॥৩॥মহাবীর, পরাক্রমশালী বজরঙ্গী। কুমতি দূর করো, সুমতির সঙ্গী।
কাঞ্চন বরন বিরাজ সুবেষা। কানন কুণ্ডল কুঞ্চিত কেশা॥৪॥সোনালী বর্ণ, সুন্দর পোশাকে সুসজ্জিত। কানে কুণ্ডল, কোঁকড়ানো চুল।
হাথবজ্র ঔ ধ্বজা বিরাজৈ। কান্ধে মুঞ্জ জানিউ সাজে॥৫॥হাতে বজ্র ও পতাকা শোভিত। কাঁধে মুঞ্জের পবিত্র সুতো সাজে।
শঙ্কর সুবন কেশরী নন্দন। তেজ প্রতাপ মহা জগ বন্দন॥৬॥শঙ্করের পুত্র, কেশরীর নন্দন। তেজ ও প্রতাপে জগৎ বন্দিত।
বিদ্যাবান গুণী অতি চাতুর। রাম কাজ করিবে কো আতুর॥৭॥বিদ্যাবান, গুণী, অতি চতুর। রামের কাজে সর্বদা ব্যাকুল।
প্রভু চরিত্র সুনিবে কো রসিয়া। রামলখন সীতা মন বসিয়া॥৮॥প্রভুর চরিত্র শ্রবণে রসিক। রাম, লক্ষণ, সীতা মনে বসে থাকেন।
সূক্ষ্ম রূপধরি সিয়াহি দিখাবা। বিকট রূপধরি লংক জরাবা॥৯॥সূক্ষ্ম রূপ ধরে সীতাকে দর্শন দিয়েছ। ভয়ংকর রূপ ধরে লঙ্কা পুড়িয়েছ।
ভীম রূপধরি অসুর সংহারে। রামচন্দ্র কে কাজ সংবারে॥১০॥ভীম রূপ ধরে অসুর সংহার করো। রামচন্দ্রের সব কাজ সম্পন্ন করো।
লায়ে সঞ্জীবন লখন জিয়ায়ে। শ্রী রঘুবীর হরষি উর লায়ে॥১১॥সঞ্জীবনী এনে লক্ষণকে বাঁচিয়েছ। শ্রীরঘুবীর হর্ষে তোমাকে বুকে নিয়েছেন।
রঘুপতি কীন্হী বহুত বদায়ী। তুম মম প্রিয ভরত সম ভায়ি॥১২॥রঘুপতি তোমার বহু প্রশংসা করেছেন। তুমি ভরতের মতো আমার প্রিয় ভ্রাতা।
সহস্র বদন তুম্হরো য়শগাবৈ। অস কহি শ্রীপতি কণ্ঠ লগাবৈ॥১৩॥সহস্র মুখ তোমার যশ গায়। এই বলে শ্রীপতি তোমাকে আলিঙ্গন করেন।
সনকাদিক ব্রহ্মাদি মুনীশা। নারদ শারদ সহিত অহীশা॥১৪॥সনকাদি, ব্রহ্মা, মুনি, নারদ, শারদা ও শেষনাগ — সবাই তোমার মহিমা গান।
য়ম কুবের দিগপাল জহাং তে। কবি কোবিদ কহি সকে কহাং তে॥১৫॥যম, কুবের, দিগপাল, কবি-পণ্ডিত — কেউ তোমার মহিমা পূর্ণ বর্ণনা করতে পারে না।
তুম উপকার সুগ্রীবহি কীন্হা। রাম মিলায় রাজপদ দীন্হা॥১৬॥তুমি সুগ্রীবের মহান উপকার করেছ। রামের সঙ্গে মিলিয়ে রাজপদ দিয়েছ।
তুম্হরো মন্ত্র বিভীষণ মানা। লংকেশ্বর ভয় সব জগ জানা॥১৭॥তোমার মন্ত্র বিভীষণ মেনেছে। লঙ্কেশ্বরের ভয় সব জগৎ জানে।
য়ুগ সহস্র য়োজন পর ভানূ। লীল্যো তাহি মধুর ফল জানূ॥১৮॥সহস্র যোজন দূরে সূর্যকে দেখে। মিষ্টি ফল ভেবে গিলে ফেলেছ।
প্রভু মুদ্রিকা মেলি মুখ মাহী। জলধি লংঘি গয়ে আচার্য নাহী॥১৯॥প্রভুর আংটি মুখে নিয়ে। নির্দ্বিধায় সাগর পার হয়েছ।
দুর্গম কাজ জগত কে জেতে। সুগম অনুগ্রহ তুমহ্রে তেতে॥২০॥জগতের দুর্গম কাজ। তোমার অনুগ্রহে সহজ হয়ে যায়।
রাম দুয়ারে তুম রখবারে। হোত ন আজ্ঞা বিনু পৈসারে॥২১॥রামের দুয়ারে তুমি রক্ষক। তোমার অনুমতি ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারে না।
সব সুখ লহৈ তুম্হারী শরণা। তুম রক্ষক কাহূ কো ডরনা॥২২॥তোমার শরণে সব সুখ পাওয়া যায়। তুমি রক্ষক, কার ভয়?
আপন তেজ সম্হারো আপৈ। তিনোং লোক হাংক তে কাংপৈ॥২৩॥নিজের তেজ তুমি নিজেই সংহরণ করো। তোমার হুঙ্কারে ত্রিভুবন কাঁপে।
ভূত পিশাচ নিকট নহি আবৈ। মহাবীর জব নাম সুনাবৈ॥২৪॥ভূত-পিশাচ কাছে আসে না। যখন মহাবীরের নাম শোনা যায়।
নাসৈ রোগ হরৈ সব পীরা। জপত নিরন্তর হনুমত বীরা॥২৫॥রোগ নাশ হয়, সব পীড়া দূর হয়। নিরন্তর হনুমান বীরের জপে।
সংকট সে হনুমান ছুড়াবৈ। মন ক্রম বচন ধ্যান জো লাবৈ॥২৬॥সংকট থেকে হনুমান উদ্ধার করেন। মন, কর্ম, বচনে যিনি ধ্যান করেন।
সব পর রাম তপস্বী রাজা। তিনকে কাজ সকল তুম সাজা॥২৭॥সকলের পরম রাম তপস্বী রাজা। তাঁর সব কাজ তুমি সম্পন্ন করো।
ঔর মনোরধ জো কোয়ি লাবৈ। সহি অমিত জীবন ফল পাবৈ॥২৮॥অন্য মনোরথ যে কেউ আনে। সে অমিত জীবন ফল পায়।
চারো যুগ প্রতাপ তুম্হারা। হৈ প্রসিদ্ধ জগত উজিয়ারা॥২৯॥চার যুগে তোমার প্রতাপ। জগতে প্রসিদ্ধ ও উজ্জ্বল।
সাধু সন্ত কে তুম রখবারে। অসুর নিকংদন রাম দুলারে॥৩০॥সাধু-সন্তের রক্ষক তুমি। অসুর সংহারকারী রামের প্রিয়।
অষ্ঠসিদ্ধি নব নিধি কে দাতা। অস বর দীন্ জানকী মাতা॥৩১॥অষ্টসিদ্ধি ও নবনিধির দাতা। এই বর দিয়েছেন জানকী মাতা।
রাম রসায়ন তুম্হারে পাসা। সদা রহো রঘুপতি কে দাসা॥৩২॥রাম-রসায়ন তোমার কাছে। সর্বদা রঘুপতির দাস হয়ে থাকো।
তুম্হরে ভজন রামকো পাবৈ। জনম জনম কে দুখ বিসরাবৈ॥৩৩॥তোমার ভজনে রামকে পাওয়া যায়। জন্ম-জন্মের দুঃখ ভুলে যায়।
অন্ত কাল রঘুপতি পুরযায়ী। জহান জনম হরিভক্ত কহায়ী॥৩৪॥অন্তকালে রঘুপতি পুরী দেন। যে জন্মে হরিভক্ত বলে পরিচিত।
ঔর দেবতা চিত্ত ন ধরায়ে। হনুমত সেযি সর্ব সুখ করায়ে॥৩৫॥অন্য দেবতায় চিত্ত না ধরালেও। হনুমানের সেবায় সর্ব সুখ হয়।
সংকট কটৈ মিটৈ সব পীরা। জো সুমিরৈ হনুমত বল বীরা॥৩৬॥সংকট কাটে, সব পীড়া মিটে। যে স্মরণ করে হনুমান বলবীরকে।
জয় জয় জয় হনুমান গোসায়ী। কৃপা করহু গুরুদেব কী নায়ী॥৩৭॥জয় জয় জয় হনুমান গোস্বামী। গুরুর মতো কৃপা করো।
যো শত বার পাঠ কর কোয়ী। ছূটহি বন্দি মহা সুখ হোয়ী॥৩৮॥যে শতবার পাঠ করে। বন্দি মুক্ত হয়, মহাসুখ লাভ করে।
জো য়াহ পড়ে হনুমান চালীসা। হোয়ে সিদ্ধি সাখী গৌরীশা॥৩৯॥যে এই হনুমান চালিসা পড়ে। সিদ্ধি হয়, গৌরীশ (শিব) সাক্ষী।
তুলসীদাস সদা হরি চেরা। কীজৈ নাথ হৃদয় মহ ডেরা॥৪০॥তুলসীদাস সদা হরির দাস। হৃদয়ে স্থান দাও, নাথ।

হনুমান চালিসার ইতিহাস (Hanuman Chalisa History)

হিন্দু ইতিহাস অনুযায়ী কথিত রয়েছে, তুলসীদাস কারাগার থেকেই ৪০ দিন ধরে হনুমান চালিসা গেয়েছিলেন। এটি মন্ত্রের ৪০টি শ্লোককে নির্দেশ করে। এরপর আকবরের দরবারে বানরের একটি বাহিনী উপস্থিত হয়েছিল, যার ফলে তুলসীদাস মুক্তি পেয়েছিলেন।

এই মন্ত্রের শ্লোকগুলি ভগবান রামের প্রতি হনুমানের গভীর ভক্তি ও আত্মসমর্পণের প্রকাশ ঘটায়। হনুমান যখন লক্ষণকে বাঁচাতে সঞ্জীবনী পর্বত বহন করেন, সেই নিঃস্বার্থ সেবার কথাও শ্লোকে বর্ণিত।

হনুমান চালিসা পাঠের নিয়ম ও সময় (Hanuman Chalisa Rules & Time)

হনুমান চালিসা পড়ার নির্দিষ্ট কোনো বাধ্যতামূলক নিয়ম নেই। তবে কিছু বিষয় মেনে চললে ভক্তি ও একাগ্রতা বৃদ্ধি পায়:

  • ভক্তি: প্রতিটি শ্লোকের অর্থ ও তাৎপর্যে মনোযোগ দিন। পূর্ণ ভক্তি ও একাগ্রতার সঙ্গে পাঠ করুন।
  • পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: পাঠের স্থান পরিষ্কার ও বিভ্রান্তিমুক্ত রাখুন।
  • পবিত্রতা: পাঠের আগে স্নান করুন বা হাত-পা ধুয়ে নিন।
  • নৈবেদ্য: পাঠের আগে বা পরে ভগবান হনুমানকে ফুল, মিষ্টি ও ফল অর্পণ করুন।

হনুমান চালিসা যেকোনো দিন, যেকোনো সময় পড়া যায়। তবে মঙ্গলবার বা শনিবার পাঠ করলে অশেষ আশীর্বাদ বর্ষণ হয় বলে বিশ্বাস করা হয়।

হনুমান চালিসা পাঠের উপকারিতা (Hanuman Chalisa Benefits)

ভক্তিভরে ও আন্তরিকতার সঙ্গে হনুমান চালিসা পাঠ করলে জীবনে প্রচুর উপকার হয় বলে বিশ্বাস করা হয়:

  1. বাধা অতিক্রম: নিয়মিত পাঠে জীবনের বাধা ও অসুবিধা সহজে কাটিয়ে ওঠা যায়। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও সাফল্য অর্জন সহজ হয়।
  2. স্বাস্থ্যের উন্নতি: শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়। ছোটখাটো অসুস্থতা ও রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
  3. সুরক্ষা ও আশীর্বাদ: নেতিবাচক শক্তি ও অশুভ আত্মার প্রভাব দূর হয়। শক্তি, সাহস ও আশীর্বাদ লাভ হয়।
  4. আধ্যাত্মিক উন্নতি: আধ্যাত্মিক শক্তির বিকাশ হয়। নেতিবাচক চিন্তা দূর হয়, ভক্তি ও নম্রতা বৃদ্ধি পায়।

হনুমান চালিসা PDF ডাউনলোড (Hanuman Chalisa PDF Bengali)

হনুমান চালিসার PDF ডাউনলোড করতে চাইলে উপরের 📥 PDF ডাউনলোড / প্রিন্ট বোতামে ক্লিক করুন। আপনার ব্রাউজার থেকে সরাসরি প্রিন্ট বা PDF হিসেবে সেভ করতে পারবেন — সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, শুধুমাত্র Gollok.com-এ।

হনুমান চালিসা পাঠ সংক্রান্ত FAQ

দিনে কতবার হনুমান চালিসা পাঠ করা শুভ?
প্রতিদিন অন্তত ১ বার একাগ্রচিত্তে পাঠ করা উত্তম। বিশেষ সংকটে ৭ বার বা ১০০ বার পাঠ করার সংকল্প করা হয়।
হনুমান চালিসা পাঠের সেরা দিন ও সময় কোনটি?
মঙ্গলবার ও শনিবার বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সূর্যোদয়ে, সন্ধ্যায় আরতির পর বা রাতে ঘুমানোর আগে পাঠ সবচেয়ে লাভদায়ক।
রাতে ঘুমানোর আগে হনুমান চালিসা পাঠ করলে কী উপকার?
২৪তম চৌপাঈ অনুযায়ী রাতে পাঠ করে ঘুমালে দুঃস্বপ্ন, অনিদ্রা ও নেতিবাচক শক্তির প্রভাব কেটে যায়।
পাঠের সময় কোন দিকে মুখ করে বসা উচিত?
পূর্ব বা উত্তর দিক মুখ করে লাল আসনে বসুন। লাল বস্ত্র পরে দীপ জ্বালিয়ে পাঠ শুরু করলে বিশেষ আশীর্বাদ লাভ হয়।
মহিলারা কি হনুমান চালিসা পাঠ করতে পারেন?
হ্যাঁ, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই শ্রদ্ধা ও শুদ্ধ মনে পাঠ করতে পারেন।
শনির সাড়ে সাতি কাটাতে কি হনুমান চালিসা কাজ করে?
হ্যাঁ, শনিদেব হনুমানের ভক্তদের কষ্ট দেন না বলে বর দিয়েছিলেন। তাই প্রতি শনিবার পাঠ পরম অমোঘ প্রতিকার।

© Gollok.com — ভক্তি, মন্ত্র ও বাংলা সংস্কৃতি। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

Scroll to Top